
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে। ইউনিটটির বি-২ পর্যায়ের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, বি-২ ধাপের পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিট-১ ‘সি স্টেজে’ প্রবেশ করবে। এরপর শুরু হবে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে, সম্ভাব্য ২৫ অক্টোবর পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা যাবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
পাওয়ার স্টার্টআপের পর প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ড. মো. জাহেদুল হাসান। পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফর করেছে উচ্চপর্যায়ের একটি রুশ প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিনিধিদলটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
শুক্রবার রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করে। সফরে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্প পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
রাশিয়ার দূতাবাস জানিয়েছে, বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে যৌথভাবে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৈঠকে ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রথম ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সে হিসাবে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে।
তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি প্রতিটি পরীক্ষার ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে।