
দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে একটি করে বালক ও বালিকা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৬৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে এবং প্রয়োজন হবে আনুমানিক ২৭ হাজার শিক্ষক।
দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রতিটি আসনে একটি বালক ও একটি বালিকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ৬৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকাসমূহে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তবে এখনো প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩১ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ২০ হাজার ৫২০ কোটি টাকা এবং বিদেশি সহায়তা থেকে ৪৭ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্ভাব্য বিদেশি অর্থায়নের উৎস হিসেবে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি), জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), কোরিয়ার ইডিসিএফ ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব সংস্থার কাছ থেকে অর্থায়ন এখনো নিশ্চিত হয়নি।
**প্রতিষ্ঠান নির্মাণে প্রয়োজন ১ হাজার ৮০০ একর জমি**
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৩০০টি বালক এবং ৩০০টি বালিকা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আনুমানিক তিন একর জমি প্রয়োজন হবে। সে হিসাবে মোট ৬০০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণে প্রায় ১ হাজার ৮০০ একর জমির প্রয়োজন হতে পারে।
জমির প্রাপ্যতা, উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্থানীয় জনসংখ্যা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থান কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে প্রস্তাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
**প্রতিষ্ঠানপ্রতি শিক্ষার্থী ১১০০, সুযোগ পাবে ছয় লাখ**
প্রস্তাবিত মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আনুমানিক এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনার সুযোগ পাবে।
প্রতি শ্রেণিতে তিন থেকে চারটি শাখা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হবে ৩৮ থেকে ৪০ জন। এ হিসাবে ৬০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থীর পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হবে।
সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে আবাসিক সুবিধা, খেলাধুলা, সাঁতার, সাংস্কৃতিক চর্চা, প্রযুক্তি শিক্ষা ও কারিগরি দক্ষতা বিকাশের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
**প্রয়োজন হবে ২৭ হাজার শিক্ষক**
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে গড়ে ৪৫ জন শিক্ষক প্রয়োজন হবে। সে হিসাবে ৬০০টি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনায় মোট প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষক প্রয়োজন হতে পারে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের অনুপাত দাঁড়াবে প্রায় ২২:১।
শিক্ষক ছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, পরীক্ষাগার ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট জনবল, গ্রন্থাগারিক, নার্স, খাবার ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনার কর্মী, হোস্টেল তত্ত্বাবধায়ক এবং নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হবে।
তবে প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের যাচাই-বাছাই, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
এ কারণে ২৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আপাতত প্রকল্পের সম্ভাব্য জনবল চাহিদা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এখনই শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।