অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ে জাল স্বাক্ষরে সত্যায়িতের বাণিজ্য, পাতাপ্রতি ২০-৫০ টাকা

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা ও সরকারি কলেজের শিক্ষকদের নাম ব্যবহার করে জাল স্বাক্ষর এবং নকল সিল দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সত্যায়িত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পৌর শহরের কয়েকটি কম্পিউটার ও ফটোকপি প্রতিষ্ঠানে প্রতি পাতা ২০ থেকে ৫০ টাকা নিয়ে প্রকাশ্যেই এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের আমতলা চৌরাস্তা সংলগ্ন নাজমা মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদ, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিতে জাল স্বাক্ষর ও নকল সিল ব্যবহার করে সত্যায়িত করা হচ্ছে। এ জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রতি পাতায় ২০ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর সত্যায়িত কাগজপত্রের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি চক্র বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও সরকারি কলেজের শিক্ষকদের নামে জাল সিল তৈরি করে এবং তাদের স্বাক্ষর নকল করে আবেদনকারীদের নথি সত্যায়িত করছে। ইতোমধ্যে এভাবে সত্যায়িত করা কাগজপত্র দিয়ে শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রভাষকদের নামেও জাল সিল তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সিল ও জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সত্যায়িত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, তাদের নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে—এ বিষয়ে তারা আগে অবগত ছিলেন না। তারা ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ বেআইনি উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের দাবি, তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অনুমতি নিয়েই এসব সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আবেদনকারী জানান, দ্রুত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় অনেকেই যাচাই-বাছাই না করেই এসব দোকান থেকে কাগজপত্র সত্যায়িত করছেন। আবেদনের সময়সীমা কম থাকায় এবং ঝামেলা এড়াতেই তারা এই পদ্ধতি বেছে নিচ্ছেন।

সচেতন মহলের মতে, জাল স্বাক্ষর ও নকল সিল ব্যবহার করে সরকারি কিংবা শিক্ষাগত নথি সত্যায়িত করা গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি নথির নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের আস্থার জন্য হুমকি। তাই দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা মিললে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে সাময়িক বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসা

1

বিএনপির ‘হামলায়’ রুমিনের দুই সমর্থক আহত

2

ইশরাককে পুনর্বহালের দাবি, বিকল্প হিসেবে প্রতিমন্ত্রী চান শহী

3

সাজেকে দ্বিতীয় দফায় সড়ক অবরোধ, আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

4

অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান লায়ন গনি মিয়

5

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি

6

সরকারের পাওনা ১২৬ কোটি টাকা, ফাঁকি দিতে অভাবনীয় জালিয়াতি ওসম

7

শরিয়া বিতর্কের মধ্যেই পিতা-মাতার সম্পত্তি সুরক্ষায় বিল পাস

8

সরকারি চাকরিজীবীদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত, কর দিতে হবে যেসব

9

নতুন প্রজন্মকে জিয়ার আদর্শ জানাতে বললেন মঈন খান

10

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোর

11

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত

12

এসআরবি গঠনের বিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-রিশফিকের পাল্টাপাল্টি যু

13

শিরোনাম: ১৩৭টি সাপ নিয়ে বিপাকে হবিগঞ্জ বন বিভাগ, অবমুক্তির স

14

২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে এফটিএ চায় বাংলা

15

ফুলবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাদ ধসে আহত ৪

16

রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষীকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দিলেন

17

ভূমিমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি

18

বান্দরবানে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

19

জুলাইয়ে রাজনৈতিক ও মব সহিংসতায় নিহত ২৩: এইচআরএসএস

20