দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমি দখলকে কেন্দ্র করে এনসিপির নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ গং কর্তৃক মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. রবিউল ইসলাম চৌধুরী ও তার পরিবার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার ছোয়ানি বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রবিউল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী জেবউন নেহার। তিনি লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, রাঙ্গামাটি মৌজার এসএ খতিয়ান নং-১৭৪, দাগ নং-১১৪৫-এর ৩২ শতক জমির মধ্যে ১৯৫৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করে। ফলে বাস্তবে অবশিষ্ট থাকে ২৬ শতক জমি। তাদের দাবি, ১৯৮৮ সালে তাদের শ্বশুর মো. শহিদুল ইসলাম ১৬ শতক জমি ক্রয় করেন। পরে একই জমির বিষয়ে ১৯৯১ সালে অপর পক্ষ ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের লোকজন জমি কেনার দাবি করেন।
তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, জমি খারিজ, জরিপ, ৩০ ধারায় আপত্তি ও ৩১ ধারায় আপিলসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় মো. শহিদুল ইসলামের নামে ১৬ শতক জমির রেকর্ড বহাল রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব সরকারি নথি ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি এনসিপির নেতা ইমরান চৌধুরী নিশাদ গং তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবার উপস্থিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনারা আমাদের ও ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের মূল দলিল এবং সরকারি নথি যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সেই সঙ্গে এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী পরিবার বলেন, দেশের সংকটময় সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এনসিপি মানুষের মধ্যে যে আস্থা তৈরি করেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমার অভিযোগ, দলের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি যদি বিভিন্ন দপ্তরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার বা খবরদারি করেন, এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই আমি এনসিপির সম্মানিত সমন্বয়কের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি—আমার করা অভিযোগ, জমির দলিলপত্র, আদালতের রায় এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখার জন্য।
জমি বিরোধের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান রবিউল ইসলাম চৌধুরীর পরিবারবর্গ।
একই সঙ্গে বৈধভাবে ক্রয়কৃত ও দীর্ঘদিনের দখলে থাকা জমি নিয়ে প্রতিপক্ষ যেন কোনো আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়েও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। তারা বিশ্বাস করেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মন্তব্য করুন