অনেক কর্মজীবী নারী সারাদিন অফিসের ব্যস্ততা সামলে যখন বাড়ি ফেরেন, তখনও তাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। রান্না, সন্তান, সংসার—সবকিছু সামলে দিনের শেষে যখন ঘুমাতে যান, তখন মনের ভেতর একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, আমি এত কিছু করি, এত দায়িত্ব সামলাই, কিন্তু আমার পার্টনার কেন আমার কষ্টটা বুঝতে পারে না?
আর এই না বোঝার অনুভূতি থেকেই ধীরে ধীরে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে।
অফিস ও সংসার—দুটো দিক একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেক নারী ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সেই জমে থাকা ক্লান্তি ও অভিমান একসময় রাগ হয়ে প্রকাশ পায়। আর সেই রাগের প্রভাব পড়ে সবচেয়ে কাছের মানুষটির ওপর। তখন সম্পর্কটা আর দুজন মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতার জায়গায় থাকে না, বরং অজান্তেই পরিণত হয় দুই পক্ষের লড়াইয়ে।
মনোবিজ্ঞানী John Gottman-এর দাম্পত্য সম্পর্কবিষয়ক গবেষণায় দেখা যায়, সুখী দম্পতিরা দ্বন্দ্বের সময় একে অপরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে সমস্যাটাকেই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন। অর্থাৎ, ‘তুমি বনাম আমি’ নয়, বরং ‘আমরা বনাম সমস্যা’—এই দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে পারে।
কর্মজীবী নারীর জীবন যে কঠিন, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে স্বামীকে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভাবলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তাই রাগ বা অভিযোগের বদলে নিজের কষ্টের কথাটা সহজভাবে বলা যেতে পারে।
“আমি খুব ক্লান্ত, আমার একটু সাহায্য দরকার।”
অনেক সময় এই ছোট্ট কথাটিই পার্টনারকে আপনার অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করতে পারে এবং আপনার প্রতি সহমর্মিতা তৈরি করতে পারে।
পার্টনার মানে সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়। পার্টনার মানে মতের অমিল থাকলেও একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনের সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
সংসার দুজনের। তাই লড়াইটাও একে অপরের বিরুদ্ধে নয়, বরং দুজন মিলে সমস্যার বিরুদ্ধে হওয়া উচিত। একসঙ্গে পথ চলার এই মানসিকতাই সম্পর্ককে সহজ, সুন্দর ও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন