অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ঠাকুরগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর ফাঁকা, বাসিন্দা ফিরছে না যোগাযোগ সংকটে

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৩ নম্বর আকচা ইউনিয়নের কান্দরপাড়া এলাকায় টাঙ্গন নদীর তীরে ২০২০-২১ অর্থবছরে ‘আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’-এর আওতায় নির্মিত ১৫১টি ঘরের অধিকাংশই বর্তমানে খালি পড়ে রয়েছে। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত এ প্রকল্পে এখন মাত্র ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ ঘর জনশূন্য থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেখানে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা অতিক্রম করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং নিয়মিত যানবাহনের সুবিধা না থাকায় কর্মজীবী মানুষের জন্য প্রতিদিন যাতায়াত অত্যন্ত দুর্ভোগের হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া প্রকল্পটি একটি মহাশ্মশানের কাছাকাছি হওয়ায় অনেক পরিবার, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে সেখানে বসবাস করতে নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক অস্বস্তি অনুভব করছেন। রাতের বেলায় নির্জন পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাবও বাসিন্দাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

অন্যদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আশেপাশে বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় দিনমজুর, কুমার ও নিম্নআয়ের অনেক মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে আবারও নিজেদের আগের এলাকায় ফিরে গেছেন। তাদের কেউ কেউ বর্তমানে নদীর তীরে কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ী খড়ের ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয়দের দাবি, টাঙ্গন নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। পাশাপাশি একটি পাকা সড়ক নির্মিত হলে প্রকল্পটি বসবাসের জন্য উপযোগী হয়ে উঠবে এবং সরকারি বিনিয়োগের যথাযথ সুফল নিশ্চিত করা যাবে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে থাকা কয়েকটি ঘরে মাদকসেবীদের আড্ডা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। এলাকাবাসী প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, যেসব বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করছেন না, তাদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। একই সঙ্গে রাস্তা ও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এরপরও কেউ বরাদ্দপ্রাপ্ত ঘরে ফিরে না এলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বরাদ্দ পুনর্বিবেচনা করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, গৃহহীন মানুষের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করাই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তবে পরিকল্পিত অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ ছাড়া শুধু ঘর নির্মাণ করে টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই প্রকল্পটিকে কার্যকর করতে দ্রুত রাস্তা, সেতু, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত ভূমিহীনদের অগ্রাধিকার দিয়ে পুনর্বাসনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্

1

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দে

2

থাইল্যান্ডে শিশুর চালানো পিকআপে ৮ বৌদ্ধ ভিক্ষুর মৃত্যু

3

এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালন লস ৩.২৭ শতাংশ: জ্বালানিমন্ত্র

4

বৈশ্বিক অপরাধ মোকাবিলায় সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়তে চায়

5

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে না আসায় বিরোধী দলকে ধোঁকাবাজ বলল

6

ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচ ড্র হলে জমে যাবে গ্রুপ ‘সি’-এর সমীকরণ

7

বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘের ছয় অগ্রাধিকার

8

আফগানিস্তান ম্যাচে মিরাজকে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ, আশাবাদী সিম

9

টিসিবির জন্য ৪৪৫ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

10

ফার্মগেটে মসজিদে গোপন বৈঠক, আটক ২৩

11

শক্তিশালী স্থানীয় সরকারই গণতন্ত্রের ভিত্তি: মির্জা ফখরুল

12

পীরগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন, শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়

13

পুলিসিক ছাড়াই দাপুটে যুক্তরাষ্ট্র, প্রথমার্ধেই অস্ট্রেলিয়াকে

14

তারেক রহমানের সঙ্গে এডিটেড ছবি পোস্ট, সমালোচনায় ছাত্রদল নেতা

15

এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণায় ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৪০০ টাকা পর্

16

পীরগঞ্জের ১৭ জলাশয়ে ২৪৪ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

17

আ.লীগ সমঝোতা চাইলে আগে অপরাধ স্বীকার করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

18

ঢাকা-বাকু ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষর

19

পঞ্চগড়ে ৪ সাংবাদিককে প্রশিক্ষণে বাধার অভিযোগ আমলে নেয়নি প্রে

20