অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Nov 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শিরোনাম: ১৩৭টি সাপ নিয়ে বিপাকে হবিগঞ্জ বন বিভাগ, অবমুক্তির স্থান নির্ধারণ হয়নি

বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা ১৩৭টি সাপ কোথায় ও কীভাবে অবমুক্ত করা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় পড়েছে হবিগঞ্জ বন বিভাগ। উদ্ধার করা সাপগুলোর অধিকাংশই বিষধর গোখরা। একসঙ্গে এতগুলো সাপ বনে ছাড়লে আশপাশের লোকালয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় আপাতত সেগুলো রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে।

হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা ১৩৭টি সাপ ও সাপের ডিম অবমুক্ত করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে বন বিভাগ। সাপগুলোর মধ্যে অধিকাংশই বিষধর গোখরা। একসঙ্গে এতগুলো সাপ বনে ছেড়ে দিলে আশপাশের জনবসতিতে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে কর্মকর্তাদের। এ কারণে চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা বন্য প্রাণী অভয়ারণ্যে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো অবমুক্ত করা হয়নি। বর্তমানে সাপগুলো হবিগঞ্জ বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সাপের মধ্যে রয়েছে ৭০টি পদ্মা গোখরা, ৬০টি খইয়া গোখরা, পাঁচটি দাঁড়াশ, একটি মা দাঁড়াশ ও একটি মা খইয়া গোখরা। এ ছাড়া পাঁচটি সাপের ডিমও উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৩৭টি সাপ ও ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোর অধিকাংশই বাচ্চা সাপ।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত পাঁচ থেকে ১০টি সাপ উদ্ধারের পরপরই বনে অবমুক্ত করা হয়। তবে এবার সংখ্যাটি তুলনামূলক অনেক বেশি। এর মধ্যে মা সাপ ও ডিম থাকায় অবমুক্তির বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।

তাঁরা জানান, রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের আশপাশে কালেঙ্গা, রেমা ও চনবাড়ি এলাকায় জনবসতি রয়েছে। ফলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক বিষধর গোখরা অবমুক্ত করা হলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে।

হবিগঞ্জের বন্য প্রাণী কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন বলেন, সাপগুলো বর্তমানে বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়েছে। একসঙ্গে এতগুলো সাপ অবমুক্ত করলে মানুষের জানমালের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, গোখরা সাপ প্রকৃতিতে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাপগুলোকে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তবে লোকালয় থেকে দূরে উপযুক্ত আবাসস্থল নির্বাচন করে পর্যায়ক্রমে পৃথক এলাকায় অবমুক্ত করা হলে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব। পাশাপাশি সাপের ডিম ফোটার জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।

বন বিভাগ জানিয়েছে, আপাতত রেসকিউ সেন্টারে সাপগুলোর স্বাস্থ্য, খাবার ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সেগুলো অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কবে এবং কোথায় সাপগুলো ছাড়া হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এই তারকারাও

1

বিমানবন্দরে হুমকি-লাঞ্ছনার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান

2

৩৪ বছরেও মেলেনি খাসজমি, দশমিনায় ভূমিহীনদের বিক্ষোভ

3

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়াল খেলাফত মজলিস

4

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

5

পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুত

6

এলপিজি বিক্রি বন্ধের ঘোষণায় ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৪০০ টাকা পর্

7

ক্রিকেট শিখতে বিকেএসপিতে চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল

8

এইচএসসি থেকেই চালু হতে পারে পুনঃপরীক্ষা, সুযোগ পাবেন অনুত্তী

9

জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

10

বাংলাবান্ধা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

11

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, নতু

12

সংবিধান সংস্কারে ১১ দলীয় ঐক্যের ৭ দফা দাবি

13

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কোপা দেল রের ২৪ ম্যাচ স্থগিত

14

ডাকসুর ফ্লোরে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি, পদদলিত করলেন শিক্ষার্

15

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবন

16

ফুলবাড়ী পৌরসভার ৬২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

17

জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ল, বিদ্যুৎ-শিল্পে স্বস্তির আভাস

18

এক বিদ্যালয়ে দুই ভারপ্রাপ্ত প্রধান, তেঁতুলিয়ায় নতুন বিতর্ক

19

ফুলবাড়ীতে ১৫ যুবক পেল ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়্যারিং প্রশিক্ষণ

20