সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেবেন না। সবাই ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিকত্বের পরিচয়ে নিজেদের পরিচিত করবেন।
তিনি বলেন, ‘সবাই বলবেন, এ দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন সিটিজেন হিসেবে।’
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পলাশীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর মিছিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাকরণগতভাবে আমরা ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কারণ সাহিত্যে শব্দটি এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ বজায় রাখতে হবে। তবে ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটি ব্যবহার না করাই ভালো। এর পরিবর্তে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার কথা বলা উচিত।
তিনি বলেন, ‘আজ থেকে আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখব। কারো আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দ উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি আমরা বজায় রাখব।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে যারা মনে করতেন এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের ভোট তাদের ভোট ব্যাংক, সেই ভ্রান্ত ধারণা তারা ভেঙে দিয়েছেন। কারণ আমরা সবাই বলি, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এবং নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সব ধর্মের ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না। ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয়, উপাসনালয়ে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের স্বাধীনতা এবং উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
‘আমরা শুধু সেটা সংবিধানে ধারণ করেই বসে থাকতে চাই না। বাস্তবে আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করব। আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি, এখন পর্যন্ত সেই নিশ্চয়তা আমরা বিধান করেছি। রায় আপনারা দেবেন, বিচারক আপনারা।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সবাই নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে চান। ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু সেটি এখানে মুখ্য নয়। সবাই নাগরিকের পরিচয়ে থাকতে চান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নৃগোষ্ঠী—যারাই হোক, তারা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা বহাল রেখে পালন করবেন। তবে জাতীয়তা হিসেবে সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকবেন এবং সবার মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকবে।
‘এই একটাই হবে আমাদের পরিচয়। এজন্যই আমরা বলি, আমাদের নেতা বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তাহলে আমরা সবার আগে বাংলাদেশি। তারপর আমাদের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়। সবার আগে বাংলাদেশি এবং সবার জন্য বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এই হচ্ছে আমাদের নীতি।’
মন্তব্য করুন