অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউ নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেবেন না। সবাই ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিকত্বের পরিচয়ে নিজেদের পরিচিত করবেন।

তিনি বলেন, ‘সবাই বলবেন, এ দেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন সিটিজেন হিসেবে।’

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পলাশীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর মিছিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাকরণগতভাবে আমরা ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কারণ সাহিত্যে শব্দটি এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ বজায় রাখতে হবে। তবে ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটি ব্যবহার না করাই ভালো। এর পরিবর্তে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার কথা বলা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখব। কারো আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দ উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং সামাজিক শান্তি ও সম্প্রীতি আমরা বজায় রাখব।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে যারা মনে করতেন এ দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের ভোট তাদের ভোট ব্যাংক, সেই ভ্রান্ত ধারণা তারা ভেঙে দিয়েছেন। কারণ আমরা সবাই বলি, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এবং নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সব ধর্মের ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা যাবে না। ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয়, উপাসনালয়ে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের স্বাধীনতা এবং উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

‘আমরা শুধু সেটা সংবিধানে ধারণ করেই বসে থাকতে চাই না। বাস্তবে আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করব। আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি, এখন পর্যন্ত সেই নিশ্চয়তা আমরা বিধান করেছি। রায় আপনারা দেবেন, বিচারক আপনারা।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সবাই নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে চান। ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু সেটি এখানে মুখ্য নয়। সবাই নাগরিকের পরিচয়ে থাকতে চান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, নৃগোষ্ঠী—যারাই হোক, তারা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা বহাল রেখে পালন করবেন। তবে জাতীয়তা হিসেবে সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকবেন এবং সবার মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকবে।

‘এই একটাই হবে আমাদের পরিচয়। এজন্যই আমরা বলি, আমাদের নেতা বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তাহলে আমরা সবার আগে বাংলাদেশি। তারপর আমাদের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়। সবার আগে বাংলাদেশি এবং সবার জন্য বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এই হচ্ছে আমাদের নীতি।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ

1

সত্য উদঘাটনই হোক ন্যায়বিচারের প্রথম শর্ত

2

হরিপুরে প্রেমের ফাঁদে প্রতারণা, যুবক গ্রেফতার

3

২০২৮-২৯ অর্থবছরেই ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হবে ভারত

4

আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে এখন আস্ফালন হাস্যকর: ছাত্রদল সম্পাদক

5

বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কল

6

বায়তুল মোকাররমে ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশ শুরু

7

নাদিমা খানের ওপর হামলায় আসকের উদ্বেগ

8

সাংগু-মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বান্দরবানে বন্যা পরিস

9

ইথিওপিয়ায় অপহৃত দুই বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

10

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

11

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়া-খালেদার সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্

12

রাজশাহী ও ঝালকাঠিতে নতুন পুলিশ সুপার

13

খেলাধুলার সঙ্গে লেখাপড়া ও সংস্কৃতিতেও এগিয়ে যেতে হবে: প্রধান

14

৫ আগস্ট কাশ্মীরে কেন ‘কালো দিবস’?

15

তিন দফা দাবিতে ঠাকুরগাঁও সুগার মিল শ্রমিকদের ৪ ঘণ্টার কর্মবি

16

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

17

ফুলবাড়ীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

18

আ.লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

19

খালেদা জিয়াকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিচ্ছে লন্ডন ক্লিনিকের মেড

20