রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিআরপিডি সার্কুলার নং-১৭ জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নতুন এই সুবিধার আওতায় গ্রাহকেরা কোনো সুদ ছাড়াই নির্ধারিত ফির বিনিময়ে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।
এই ঋণের অর্থ নগদে রূপান্তর করা যাবে না। একইভাবে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা কোনো ওয়ালেটেও তা স্থানান্তরের সুযোগ থাকবে না।
অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু খাতে এই ঋণের অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়, টোল ও টিকিটের খরচ এবং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন সরকারি ফি।
এছাড়াও আমানতের কিস্তি, বিমা প্রিমিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত অন্যান্য ফির ক্ষেত্রেও এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এসব ক্ষুদ্র ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে সুদের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মেয়াদ অনুযায়ী এই ফি প্রযোজ্য হবে।
৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা ফি দিতে হবে।
২৫১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের মেয়াদে ফি হবে যথাক্রমে ৫, ৮ ও ১২ টাকা।
৫০১ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে একই মেয়াদে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৭, ১২ ও ২০ টাকা।
১ হাজার ১ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মেয়াদভেদে ফি ১০, ২০ ও ৩০ টাকা। আর ২ হাজার ১ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য যথাক্রমে ১৫, ৩০ ও ৫০ টাকা ফি দিতে হবে।
৩ হাজার ১ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য ২০ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৭০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫ হাজার ১ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য ফি হবে যথাক্রমে ২৫, ৫০ ও ৮০ টাকা।
সুবিধার সর্বোচ্চ সীমা ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের মেয়াদে ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১০০ টাকা ফি দিতে হবে।
গ্রাহককে ঋণের মূল অর্থ ও নির্ধারিত ফি যথাক্রমে ৮ম, ১৬তম অথবা ৩১তম দিনে পুরোপুরি পরিশোধ করতে হবে।
তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধ করা হলে অতিরিক্ত কোনো ফি বা প্রিপেমেন্ট ফি নেওয়া যাবে না।
নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে দৈনিক ভিত্তিতে জরিমানা বা অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে। তবে এই জরিমানা কোনোভাবেই ৩০ দিনের মেয়াদের জন্য নির্ধারিত ফির বেশি হতে পারবে না।
ব্যাংকগুলোর অনুমোদিত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এন্ড-টু-এন্ড (End-to-End) ডিজিটাল পদ্ধতিতে পুরো ঋণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
এ সুবিধার জন্য গ্রাহককে সরাসরি কোনো কাগজে স্বাক্ষর করতে হবে না।
বাণিজ্যিকভাবে চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে ন্যূনতম ছয় মাস এই সুবিধার ‘পাইলট’ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এরপর এর মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
মন্তব্য করুন